স্বর ব্যঞ্জনের কথোপকথন
অশ্বশক্তি
অমন অরব কেন তুমি ? অকস্মাৎ
এই প্রশ্নে কবি স্বয়ং অকথ্য পরিমাণ জলে অকূল।
অবর্ণনীয় এক অবসাদ তাকে অ-বাক করে তোলে।
অ কবি, তুমি তো অমিত ।তোমার অশ্ব অশ্ম নয় ।
ছুটে এসো হর্ষ-পাওয়ার নিয়ে ।
অবিশ্বাস্য ও অনির্বচনীয় এক শক্তি
জেগে ওঠে কোয়ার্কমণ্ডলে ।
আচরণ
আরক্ত মুখে সে তাকিয়েছিল তার দিকে ।
নিজের আপাদমস্তককে সে দুভাগ করেছে ।
একভাগে 'আমি' , অন্যভাগে 'তুমি' । দেখে
আউলে উঠছে তার শরীর । আ-মরণ আমার !
আঁকাবাঁকা প্রেমের গতি । কখনও ঘা মারছে আঁতে,
কখনও বা আকণ্ঠ ডিভোর্স ।
সারাজীবন ধরে সে যা আঞ্জাম করেছে শব্দে-বাক্যে
সেসবই এখন তার ব্যর্থতা বিষয়ক আসর।
ইরাবান
ইলা বললে এই পৃথিবীটার কথা বোঝে লোকে ,
ইশকাপনের বিবি ছাড়া যা আর কিছু নয় ।
বাক্য বা বাণী ,ধেনু বা গাভী ,সুরা,জল, - এমনকি
বুধের ঘরণীর কথাও ভাবে কেউ কেউ ।
তোমার কথাও যে হতে পারে
তেমন ভাবনা কাউকে আবিষ্ট করে না ।
আমিও চাই না কোনো নামপদ দিয়ে
তোমাকে চিহ্নিত করতে , যা নিয়ে
বোকা-বোকা কোনো কবিতা-প্রেমিক একদিন
হয়ে উঠুক বিখ্যাত এক প্রাবন্ধিক ।
বিদ্যুৎ-মাছ ইলকে বাংলা অভিধানে ঢোকাই ,
তার প্রিয় মহিলাকে বলি ইলা , যাতে
গভীর রাতের মধ্যে হারিয়ে যায় ইমন ।
ইলাবৃতবর্ষের খোঁজে পিছনের দিকে হাঁটুক
পদযাত্রার দল ।
ঈর্ষা
ঈষৎ ঝুঁকেছিলাম ঈশ্বরীর দিকে ,
সে যে আমারই সৃষ্টি !
আমার এই ঈহা যদি অনীহা হতো
তোমরা খুশি হতে,
কিন্তু আমি তার খোঁজ করিনি ।
খোঁজের সারথি হতে না চাওয়া
আমাকে উল্লেখযোগ্যতা থেকে
দূরে সরিয়ে দিয়েছে ।
জীবনের বৃত্তাকার পথে
যত দূরে সরে গেছি ,বারবার
ঈষৎ নিকটবর্তী হয়েছি তার দিকে।
ঈশ্বর আমাকে সন্দেহের চোখে দেখে তাই।
উইল
উদ্দাম হয়েছিল যে প্রেম
তোমার উদাসীন উপহারে
তা নিঃশেষ হয়েছে ।
উপরন্তু যে বিপুল পরিমাণ জলরাশি
উপযাচক হয়ে আয়োজন করেছিল
এক অন্যরকমের স্নান ,
সেও এখন এক উসকো-খুসকো
বেপথু পথচারী ।
উদ্দিষ্ট প্রেম এবং জলরাশির জন্য
বিন্দুমাত্র করুণা প্রার্থনা করছি না ।
যে অনিবার্য পরিণতি একদিন
উপস্থিত হবে তোমার নামচায় ,তা যাতে
উপমা হিসাবে ব্যবহৃত না হয় কারো জীবনে
তারজন্য কিছু উপনদী ,উপনগরী ও
এক উপবনের উপস্থাপনা করতে চাইব
আগামী উপন্যাসে ।
ঊহ্য-যোগ্য
ঊন-পূর্ণ এই জীবনের এষণা
কোয়ান্টাম থিয়োরির আলোয় ফেলে
দেখতে চাইছি।
ছোটো হলেও
দুচারটে ঊর্মিমালা থাকেই
প্রত্যেকের জীবনে ।
সেই জীবনের কেন্দ্রে এক ঊর্ণনাভ,
যাকে মাকড়সা বলেই সকলে চেনে ,
জাল বুনে চলে একমনে ।
মাকড়সা এবং তার জাল বিষয়ে
অধিকাংশ কথাই
ঊহ্য রাখতে চাই ,
চোখের আলো
কণা নাকি তরঙ্গ নাকি দুইই
নাকি অন্য কিছু
জানা যাচ্ছে না যতদিন ।
ঋজুরেখা
ঋদ্ধ ,ঋজু মেরুদণ্ডটি
ঋভুদের শরীর থেকেও হাপিস
ঋষি সম্প্রদায়ের মানুষও
ঋষিতুল্য হয়ে উঠেছেন যুগে যুগে
বাতাসের মধ্যে মিশে যাওয়া ধ্বনি ও দৃশ্যকে
যদি বোসনকণার মতো বার করা যায়
সভ্যতার এই ঋতকথা প্রমাণিত হবেই
হে ঋতুমতী প্রেম
তুমি গর্ভবতী হও
আমি তোমার দাসত্ব করব ষোড়শপচারে
এপিক
একটা স্বপ্ন ,স্বপ্ন-নির্মাণ বিষয়ে ,কাল
স্বপ্নে এসেছিল ।
যে এলো ,তার এলো চুলে ,রাস্তা হারাবার
এক রঙিন আমন্ত্রণ ছিল ।কিন্তু
আমার ততটা এলেম ছিল না ।
কেবল ঘুমের পাতায় লিখে রেখেছিলাম
সেই সরল অঙ্কের জটিল ফর্মুলা ।
ঘুম ভাঙার পর ,সকালে ,সেই ঘুমেরপাতাটি
পাওয়া গেল না এপার ওপার কোথাও ।
এখন এহেন গল্প
একজিবিশন বা একাত্মতা ,কোনো জায়গাতেই
এসরাজ বাদনের কাজে লাগবে না ।
ঐহিক
ঐ যে দেখ ,আমার মৃতদেহ যাচ্ছে ,
যে দেহের ইন্দ্রিয় আমাকে দিয়ে
অনেক পাপ করাতে চেয়েছে,
মল,মূত্র ,কফ ঘাঁটিয়েছে ।
মুখ বুজে আমি সেসব ঐহিক কুকর্ম করেছি দিনদিন ।
ঐকিক বা অধিক নিয়মে তার সহস্র জুলুম
চিনির বাতাসা ভেবে আহার করেছি।
ঐ দেখ , যে আমার ঐচ্ছিক বা অনৈচ্ছিক মতকে
সম্মান করেনি কখনো কোনোদিন ,
আজ সে আমার মৃতদেহ বহন করছে শ্মশানের দিকে।
ভারবহনের কষ্ট সহ্য করছে
খিদমতগারের বিনাশ হয়েছে ভেবে।
তোমরা তো জানো ,
যে শরীর মারা গেছে, সে কখনো ছিলাম না আমি।
আমি বেঁচে আছি ,আমি ঐশী-জাগতিক ।
ওলনদড়ি
ও-কণা আর আমি-কণা দিয়ে তৈরি এই জগৎ।
কোনো কোনো কণা বিশারদ ও-কণাকে
সে-কণা , তুমি-কণাও বলে থাকে ।
ক্ষীর প্রস্তুতকারক ,যুগে যুগে যাদের
কবি বলা হয় ,
যারা ওর রূপ বর্ণনার জন্য
বিশেষণ খুঁজতে খুঁজতে ওম পর্যন্ত গেছে বারবার ,
তারা ওর বিমূঢ় প্রেমিক কেবল ।
ওজস্বিনী ওই ও-কণার উপর
একটা হাল্কা ওড়না থাকে
পৃথিবীর যাবতীয় আমি-কণাকে সংযত রাখার জন্য।
সে আবরণ সরালেই
বিগ-ব্যাঙ অনিবার্য হয় ।
ঔদার্য
ঔপন্যাসিকরা তাঁদের গল্পে
(আমার চরিত্র এতটাই হীন )
চরিত্রহীনের চরিত্রেও আমাকে নেননি ।
সেই পরাশরের ঔরসে আমার জন্ম নয়
লোকে যার ছেলেকে বেদব্যাস বলে চেনে।
আমি এক ঔচিত্যবোধহীন মানুষের
ঔজ্জ্বল্যহীন শুক্রাণু ,
একটি ডিম্বাণুর ভালোবাসা না পেয়ে
ঔদ্ধত্য দিয়ে গড়ে উঠেছে যার
গড়ে না ওঠা গৌণ প্রণয় ।
চীনের ওউ নদীকে আমি চিনি না আদৌ ,
ওউও আমাকে ।
কলোকুইয়াল
কবুতরকে কবুতর বলিনি আমরা কখনও
বলিনি পারাবত ,
পায়রা বলেই তাকে ডেকেছি চিরকাল।
কোন পায়রার বুকে কতটা ক্ষত
কতদিন ধরে রয়েছে
কস্মিনকালেও কেউ খুঁজতে চায়নি,
বুঝতে চায়নি ।
না লেখা কবিতাটি ,
কবি যেটি উচ্চারণ করে উঠতে পারেননি এখনও,
ক্লিসে ও উচ্ছিষ্ট শব্দে যাকে ধরা যায়নি ,
সে-ই জানে কতখানি রক্তক্ষরণ হলে
কাঁচুলির নিচ থেকে কান্নার কানীন রব
শব্দহীন আল্পনা আঁকে ।
কী কারণে করণের কতটা গুরুত্ব মানা হবে
কাল জানে , কেশব জানে না ।
খই
খড়খড়ি তুলে ঘরে ঢুকেছে হাওয়া,
খয়াটে চাঁদের সামান্য আলোও তার পিছুপিছু।
খানদানি বাড়ির খুব ভেতর থেকে
খাম্বাজের সুর ছড়িয়ে পড়ছে দিকে দিকে
খারিফ শস্যের ঘ্রাণের মতো ।
এরই মধ্যে এক খঞ্জ ভিখারী ক্ষুণ্ন মনে
খোয়া যাওয়া জীবন খুঁজছিল একমনে ।
হাসিকে খিলখিল করে যে মেয়ে
সে কোথা থেকে দৌড়ে আসে তার দিকে ,
খুলে দেয় খলশে মাছের ঝাঁপি থেকে
বেঁচে ওঠার অদম্য জেদ ।
গহ্বর
গ্রামোফোনে বাজছিল গওহর জানের গজল ,
কোনো এক গলি-রাস্তার গহন থেকে
যে গন্ধ ভেসে আসছিল
গমরঙের অক্ষরে তোমার নাম ছাপা ছিল সেখানে।
গুরুগুরু শব্দে মেঘগর্জন হবে কিছুক্ষণ পর,
ঘন ঘন গভীর নিঃশ্বাস ফেলবে বাতাস,
রাস্তার গুঢ় অভিপ্রায় তখন গমনবিলাসী। তবু
গন্তব্য কেবল এক অলীক কল্পনা।
গোপন পথে গমক ধরে ধরে সেই যাওয়াকে
বিগত বলে মানতে পারিনি আমি ,
এখনও তোমার গানে গন্ধর্বের অন্বেষণ করি ।
ঘট
ঘুঘুর ডাকের ঘ্রাণে
ঘন মেঘে ঢেকেছিল
তোমার ঘরের আলো ,
অথবা কোনো ঘূর্ণি-জলে একা
কোনো ঘরহারা বিস্ময়
নৌকাডুবির মতো ঘুমিয়ে পড়ে নীরবে ।
এরকমই কোনো মিথ্যে ঘোষণা
প্রচারিত হতে পারে
সাইরেনের মতো ঘণ্টাধ্বনির কণ্ঠে ।
অথচ সব ঘেরাটোপ অতিক্রম করে
ঘড়ির কাঁটার আড়ালে
যে সত্যের ঘোড়া থাকে
বার হয়ে আসে রাজপথে ।
ঙ-চরিত
ঙ-র মতো বসে থাকতেন আমাদের ঠাকুমা ।
হাত-পা জড়ো , হাঁটু মুড়ে, যত সম্ভব
কম জায়গা নিয়ে
নিতম্ব-ভারী ড-অক্ষরের মতো । তবে
ঘাড়ের উপর স্তূপাকার চুলের খোঁপাটি ছিল
ওঁকে চেনার সহজ উপায় ।
সাড়া শব্দ নেই । নিজের কোনো বক্তব্য নেই ।
সাদা থানে রঙের চিহ্নমাত্র নেই ।
নির্বাক ,বিবর্ণ সেই ঠাকুমার এক আশ্চর্য ক্ষমতা ছিল ,
টিকিওয়ালা ব্রাহ্মণ আমার ঠাকুরদাকে ট বললে এবং
ঠাকুমাকে তাঁর পাশে রাখলেই
টঙ্ টঙ্ করে শব্দ পাওয়া যেত ।
এমনি করে র-এর পাশে বসলে রাজ্যের রঙ
ঢ-এর পাশে থাকলেই ঢঙ-ঢঙ-ঢঙ ।
উঁয় ঠাকুমার কথা এখন ভুলে যাচ্ছে অনেকে,
অনুস্বার দিয়ে কাজ সেরে নিচ্ছে কী-বোর্ডে ।
চকোর
চমৎকার এক সন্ধে নেমে এলো নদীর চড়ায় ,
চলতে চলতে যে নদী নিজের মনে এসেছিল এখানে -
চখা-চখি চঞ্চু দিয়ে চন্দন-জ্যোৎস্না ফেলে
চরাচর-চরিত লিখে রাখে ,
সে নদীর স্রোতের চরণে ।
মনে যে চাহিদা আছে তা নিয়ে চাতক আমি আজীবন
চিন্ময়ী নারীর রূপ স্পর্শ করতে চাই ,
চিরকাল এ চাওয়ার চূর্ণ চূর্ণ অণুকণা
ব্রহ্মাণ্ডে অনিমেষ চঞ্চলতা নিয়ে
চেতনার সন্ধান করে ।
চকমিলানো ঔদ্ধত্য দিয়ে
কে তাকে চুরির স্পর্ধা নেবে !
ছন্ন
ছি ছি এবং ধন্য ধন্য
এ ছাড়া মধ্যবিত্তের অভিব্যক্তি নেই কোনো ।
ছারপোকা ,মশা অথবা উকুনের পর
নিচুদিকের হাতছানিতে
ছন্দোবদ্ধতার ছলনায় অভ্যস্থ এরা,
ছকবিহীন কিছু বোঝে না ।
ছাপ্পর ছাড়িয়ে ছক্কা হাঁকানোর সাহস
ছবি আঁকার খাতাতেও দেখায় না কখনও ।
ছোটো এবং ছোট্টর তুলনাতেই গবেষণা করে ,
বৃহৎ , বৃহত্তম এবং ছলাৎছলের সান্নিধ্য
নেই বললেই হয় ।
ছ্যাঁত করে আগুনের ছ্যাঁকা লাগে বুকে
ছিটকিনি ভেঙে ছিছি'র মুখোমুখি দাঁড়াতে বললে।
জলটল
জড়-জর্জর দুনিয়ায় আমার জিওল-জীবন
জয় জয় জয় ,জয় হে জোনাকি-আশা ।
জাহান্নাম যতই নিকটবর্তী হোক
হে জাহানারা-জেসমিন ,
চিরদিন আমি তোমার জোছনা প্রত্যাশী ।
জরিপবিহীন পর্যটনে এই তুচ্ছজন
জরিমানার তোয়াক্কা করে না ।
জীমূত বহনকারী দেবরাজ জানে
জলই জীবনের দিওয়ানা , ঘন আলিঙ্গন ।
ঝক্কি
ঝুল নাম পদটি
ঝুলা ক্রিয়া পদটির উপর খুব রেগে থাকে ,
নাম পদটির উপর ক্রিয়া পদটির মনোভাবও একইরকম।
এবিষয়ে বিস্তারিত জানেন কলিম খান ।
অথচ পথ আর পথিকের ঝকঝকে সম্পর্ক
সকলেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করে ।
ঝোঁকা এবং ঝুঁকি ,
ঝড় এবং ঝোড়ো ,
এরকম অনেকেই
তাদের সম্পর্কগুলো ঝালিয়ে নিতে চায় ।
প্রেমের ঝিলিক যদি না থাকে জীবনে ,
ঝমঝম না হলেও
অন্তত ঝিরিঝিরি বৃষ্টিও না পেলে,
মরুঝড় অনিবার্য হয়।
ঞ ঠাঁই হারা
ঞ(ইঙ) বর্ণটিকে দেখলেই
রানারের কথা মনে পড়ে আমার ,
লোকটা ছুটতো, ছুটতো কেবল ।
সুকান্ত , সলিল ,হেমন্তরা তার ছুট দেখেছিলেন।
লোকটা কিঞ্চিৎ রোগা ।
পিঠের বোঝাটা বরঞ্চ অনেক বড় , ভারী ।
সঞ্চয় বলতে ছিল তার পায়ের পেশি, মনের সাহস
আর বঞ্চনার অপার মহিমা ।
বাংলা বর্ণমালার ঞ আর ডাকঘরের রানার
এরা দুজনেই এখন বিলুপ্তপ্রায় ।
অথচ কাঞ্চন ফুল , হেলেঞ্চা শাক ,
গরীবের প্রতি বঞ্চনা , - সবই রয়েছে যথাযথ ।
এমনকি বাংলা পঞ্জিকা ,কিশোরীর চোখে অঞ্জন
এখনও দেখা যায়
কোনো কোনো গ্রামেগঞ্জে হঠাৎ হঠাৎ ।
টনিক
টসটস করে প্রেম পড়ছিল টলটলে চোখ থেকে ,
কবেকার টরেটক্কা বেয়ে
ডট-ড্যাশ , ড্যাশ-ড্যাশ ,ড্যাশ-ডট করে
এসেছিল মৌন ভালোবাসা ।
ফোঁড়ার টাটানো ব্যথা যেরকম
টনটন করে ছড়িয়ে পড়ে সম্পূর্ণ শরীরে
ঠিক সেইভাবে,
টেরাকোটা-কাহিনির এন্টিক ভাষা
প্রবল মৌনতা নিয়ে পাথরে পাথরে টিকে থাকে ।
ঘুঘু পাখির একটানা ডাক
টহল দিতে বার হয় দিকে দিকে,
পিছুপিছু রেখে যায় ট্রামগাড়ির নিম যেতে চাওয়া ।
ঠগ
ঠাট্টা নয় ,ঠেস নয় ,
ব্যাকরণ বোঝেন এবং মানেন যাঁরা,
তাঁরা জানেন
ঠং শব্দটি ঠুং বা টুং শব্দের চেয়ে
একটু বেশি জোরালো । আবার
ঠক শব্দের আঘাত অনেক বেশি হলেও
কম্পন প্রায় নেই বললেই হয় ।
এইভাবে ঠুং , ঠং ,ঠক - এইসব
ঠোক্কর খেতে খেতে
জীবন একদিন পৌঁছে যায় ঠিকানায় ।
ঠা-ঠা রোদ্দুর কিংবা
ঠকঠকে ঠাণ্ডা অতিক্রম করার পর
অধিকাংশেরই প্রাপ্ত ঠিকানা
শেষমেশ ঠকায় তাদের ,গালে মারে
ঠাস করে মোক্ষম এক চড় ।
ডহর
ডুমুর গাছের নিচে দাঁড়িয়ে
ডুরে শাড়ি পরা ডোমনি বৌ
ডুমুর পাড়ছিল ।
শিবের হাতের ডমরুর মতো
তার ডবকা শরীর দেখে
ডোমকাকের সে কী লোলুপ উল্লাস !
ডেঁয়ো-পিঁপড়ের গমন নকল করা মেয়েটি
ডুণ্ডুভ-পুরুষকে গ্রাহ্য করে না ,
ডাগর চোখের ভাষা ছড়িয়ে ছড়িয়ে ফিরে আসে
ডোরাকাটা ডোমের ডেরায় ।
ঢলতা
ঢঙ না করেই ঢং ঢং ঘণ্টা-শব্দে
ঢাক পিটিয়ে দিল মেয়েটি , এই বলে -
ঢুঁ মেরে দেখার বয়স তার হয়ে গেছে ।
ঢোঁড়াসাপকে সংস্কৃত ভাষায় যে ডুণ্ডুভ বলা হয়
সে সাপ নিজেও তা জানে না ,
জানার আগ্রহও নেই ।
ঢ্যামনার সঙ্গে নিজের পার্থক্য খোঁজে না,
সে কেবল দুর্বলতরকে শিকারের অপেক্ষায়
ঘাপটি মেরে থাকে ।
মেয়েটি তার ঢলঢল লাবণ্য বিলিয়ে
জীবনের চড়াই রাস্তাকে ঢালু বানাতে চাইছে ।
ঢাকনা খুলে খুলে দেখছে
কোথায় কী রয়েছে জীবনের বাঁকে বাঁকে ।
স্বর্গে যাত্রাকারী ঢেঁকি জানে
কিছুটা ঢিলে চরিত্র দিয়েই
আত্মরক্ষার কাজ সারতে হবে তাকে ।
ণ যুক্ত
ণ(মূর্ধন্য ণ)কে দেখলেই
ভাস্কর চক্রবর্তীর সুপর্ণার কথা মনে পড়ে যায় ।
ছিপছিপে চেহারার ভালোমানুষ মেয়ে একটি ,
তারপক্ষে খুব বেশি কিছু জানা সম্ভব নয় ।
প্রবল প্রতাপশালী ন( দন্তন্য ন)
যখন যেখানে জায়গা ছেড়ে দেয় তাকে
ণত্ব-বিধান মেনে নিয়ে
সেসব জায়গাতেই থাকতে হয় মুখ বুজে ,
উপরন্তু ইংরেজি এন(N) অক্ষরটির দাপটে
বাংলাভাষায় সে এখন প্রায় উদ্বাস্তু ।
তবু কেউ কেউ ঋণ করে ভক্ষণ পর্ব মেটালে ,
ঘৃণা করতে করতে পাষাণ হয়ে গেলে ,
অথবা বসন-ভূষণ ত্যাগ করতে করতে নির্বাণ লাভ করলে
শরণাপন্ন হয় তার ।
তটিনী
তুমি তো ততটা তুমি নও
কল্পনায় যতটা তুমিকে
নির্মাণ করেছি আমি তিলেতিলে ।
যেহেতু এই সত্যের তরজমা আজ
পুরানো অনেক ,তাই একে
সম্রাটের তকতে
বসতে দেবে না কেউ ।
মেঘ তুলো হয় ,
তুলো মেঘ হয় ,
এইভাবে তব-সম ,তব-ভব প্রেম
তল্লাশ করতে করতে
তলকে অতল-তুমি করে ।
তুমি আর তত তুমি থাকবে না
ততোধিক হয়ে উঠবে
ত্বরণের অতুল নিয়মে একদিন ,
তমসা কাটানো এই তপস্যা আমার ।
থকথকে
থরে থরে সাজানো এই সান্দ্র-উল্লাস দেখে
থই হারা আমি থ ।
তথাগত যথোচিত কারণের হাত থেকে
ব্যথাকে বিযুক্ত করতে অন্যথা করেননি ,
এই তথ্য সংগ্রহ না করে শুধু আমি
কথার কথন-বিশ্বে থমকে গেলাম ।
তোমার আমার যত কথোপোথন
থোকা থোকা ফুল হয়ে অকথিত রয়ে গেল ,
কবিতার উদ্ভব হলো তা থেকেই ।
থুড়ি, এর নাম উপলব্ধি । যাহা
থমকে যাওয়া জীবনের থিসিস ছিল না ।
গাঢ়,ঘন ,নরম ,প্রবেশ্য এবং নাছোড় ।
দণ্ড-কাঙ্খা
দণ্ডে দণ্ডে দণ্ড দাও দর্পী ,
দয়া দিয়ে দমন করো না ।
দাম্ভিকের দংশন দারুস্বাদে ভরা,
দহনের দাফন কাজ ততোধিক প্রিয়।
দিল দিয়ে দেখার ইচ্ছা দীঘল করেছি দিনে দিনে , তাকে
দুয়ো দিয়ে হেনস্থা করো না । হে দাম্ভিক ,
দর্শককে দৃশ্যের দৃশ থেকে বঞ্চিত করো না ।
দেহ আর হৃদয়ের দ্বৈরথ থেকে
মুক্তি অর্জনের শক্তি ডান করো ,
দ্বিধা দিয়ে দূষিত করো না ।
ধর
ধসে পড়া জীবনকে খাদের ধারে ধারে
ধরে রাখার ধারণা খুঁজছি
ধীবরের ধী ব্যবহার করে ,
তলের সঙ্গে দেখা করতে জল যতদূর । কিন্তু
এক ধাঁধার ধাক্কায় ধাত হারাই বারবার ।
কোনো এক ধাবধাড়া-গোবিন্দপুরের
শ্রী হারা এক শ্রীরাধার
ধারালো ধাপ্পায় বারবার
ধোঁকার আস্বাদ নিতে ধৈর্যশীল হই ।
এইভাবে ধীরে ধীরে ধ্বংসকে
জয়ের ধ্বজা হাতে তুলে দিই
ঊরুভাঙা দুর্যোধন আমি ,আর
ধ্রপদ-ধুলোটে টিকে থাকি
ধিকিধিকি,অনন্তকাল ।
নতি
নত হয়েছি নতুন নতুন পন্থায় বারবার ,
নক্ষত্র যেভাবে পড়ে নয়ানজুলিতে।
নিজেকে নগ্ন করে দেখাতে চেয়েছি
গোপন কোনো নরক নেই ,
লুকানো নিকুম্ভিলা নেই, এই নরদেহে ।
নিরালায় নিরন্তর তোমাকে নির্ণয় করতে
গণিতকে নির্বিকল্প নির্গুণে রাখি,
সন্ধ্যার অন্ধকারে নিজেকে মন্থন করে
যাবতীয় নৈরাজ্য সব নর্দমায় নিক্ষেপ করি ।
একান্ত নিবিষ্ট মনে নিউক্লিয়াস থেকে
প্রোটন ও নিউট্রনকে নিখিলে পাঠাই ,
কেবল তোমার অন্বেষণে ।
পরকীয়া
পৃথিবীর মাথা ঘোরে উঠতে বসতে প্রায়ই ,
পড়ে যাবার ভয়ে
সে আমাকে আঁকড়ে ধরে । তাকে
ভালোবাসা দিয়ে জড়িয়ে ধরতে আমি
পরাঙ্মুখ হই না কখনও ।
পরস্পর পরস্পরকে আলিঙ্গন বিষয়ক
আসন শেখাই ,
পৃথিবী হয়ে ওঠে আমার পাটরানি।
জ্যোতিষ্কলোকের প্রৌঢ় জনপদ তাতে
পরশ্রী প্রত্যক্ষ করে
প্রতীতি অজর্ন করে প্রণয়ের প্রতি ।
ফরাশ
ফয়েলের কাগজ ,ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক প্যাকেট, সংগ্রহে
ফালতু একটা লোক, কার ফরমাসে কেজানে
(ফজরের সময় খোদার হাফেজ না খুঁজে )
ফেরিওয়ালার মতো ঘুরছে ।
ফেরি করার জন্য নয়,
ফেরিঘাটের নৌকায় এক ফকির যেন
ফতুয়ার বটুয়া থেকে ফুরসতের ফানুস ওড়াচ্ছে !
ফসলের মাঠে অনেকরকমের দেশি ফড়িং
ফিসফিস করে কথা বলছিল নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ,
তবু একদল ফিরিঙ্গি-পঙ্গপাল
ফাকাশ , ফাতাস , ফানের বিনিময়ে
তাদের আকাশ ,বাতাস ,গানের দখল নেয় ফুসলিয়ে।
তাদের ফুল ও ফল বিষয়ক যাবতীয় ফয়সালা
বুঝে নেওয়ার জন্য আসবেন একজন ফারজান বা ফারজানা ,
ফুজিয়ামার ফসিলে এরকম ফেক থাকে ।
বকলম
বই বইতো অন্য কিছু বই না বাবু ,
এমনকি একপয়সা বউনিও দাবি করি না ।
বটতলা বা কলেজস্ট্রিট ,
ব্যাপারের বিষয় তো একই ।
বংশলতা ঘেঁটে দেখতে পারো
এখানে কোনো বাটই তেমন বঙ্কিম নয় ।
বন্দনা বা বন্দিনী , বন্যা কিংবা বন্যার্ত
সকলেরই বংশ কিংবা ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে
বহুরকমের বই আমাদের বিত্ত ।
বল , বর্ম কিংবা বাই , ইত্যাদি বিষয়ে
বাংলার যাবতীয় ছোটো-বড় বাক্য
তা নিয়ে বিতণ্ডা বা বিবরণ ,সবই
বিস্তৃত বা বিক্ষিপ্তভাবে বিধৃত রয়েছে আমাদের বুকে ।
বইয়ের বাগাল আমরা ,
বুদ্ধিশুদ্ধি ঘটে বেশি নেই ।
ভবদীয়
ভয়ংকর ভয় করে অমিতাভর সম্পর্কে ভাট বকতে।
ভনভন করা এমনিতেই ভালো লাগে না ,
তার উপর সেই অমিত আভা যুক্ত মানুষটিকে নিয়ে?
কদাপি নয় ,কভু নয় ।
যার ভান ভানা যায় না ,এমন ভানের লোক
কীকরে যে আমাদের ভাঁড়ামোময় জগতে এসে পড়ে
বুঝি না ।
ভার্গব, মানে পরশুরাম কি প্রাসঙ্গিক হবে ?
অস্তিত্বহীন ভগবান জানে ।
আমিও তো ভড়কে যাইই ভন্তে । আমিও কি ভণ্ড?
ভঙ্গি নিয়ে ভেসে থাকব আর কতদিন ?
ভীষ্ম স্বরূপ লক্ষ ভোল্টেজের ভূতি ভুক্ত হতে চাই ।
মঘা
মনের গন্ধ ম-ম করে । ময়ালও হয় ।
মই বিশ্বাস করো ,মওকা বিশ্বাস করো ,
মৌ দখলের লড়াইতে মগ্ন থাকো । তাই
মগজে মন্দিরা-ধ্বনি নেই , অবিরাম
নতুন টাকার মর্মর ধ্বনি ।
মিড়ের মার্গ ধরে মাভৈ সংগ্রহ করা যায়,
অনিয়ম মাফিক তবু এখনও
চৌর্যকর্মে মরিয়া রয়েছি । আমাদেরই কৃতকর্মে
মৃত ময়নার ময়নাতদন্তে
সুগন্ধের ম-ম মর্জি মন থেকে
বেমালুম হাওয়া ।
মান্যবর ময়ালের মান রক্ষার দায়
মানীলোক কাঁধে তুলে নেয় ।
যদ্যপি
যবার তুমি আসতে বলবে হে যতি
তবারই যতি ব্যবহার করব কথোপকথনে
যত্নের সঙ্গে ।
কাব্যের প্রাণকে যকের হাতে
যথাপূর্ব ন-যযৌ রাখতে
যৎপরোনাস্তি চেষ্টা করব প্রভু ।
যতবার হে তপস্বী
অ-যথেচ্ছা চাইবে ,
ততবার আমি যথোচিত শৃঙ্খলে
সালঙ্কারা থাকব কঙ্কাল শরীরেও।
যদ্দিন তুমি চাইবে এই আড়ষ্টতা
এই পুতুল-পুতুল ,
তদ্দিন আমি তাকেই যদুকুলপতি মানব।
যবনের যাকিছু ,যশহীন থাকবে নিশ্চিত ।
রভস
রই যদি এইখানে রঙ্গিণীর সাথে
রই-রই করে ছুটে আসে যারা
আমাকে রক্ষার ভার ঘাড়ে নিয়ে ,
তাদের রণিত কণ্ঠে একরতি প্রেম দিও প্রভু ।
আমার রথের চাকা
জীবনের রণাঙ্গনে যদি বসে যায় ,
রসাতলে যায় যদি স্বর্গের আশা ,
রসায়নে রতিভাব পরিপূর্ণ থাকে যেন আমরণ ।
ছ'রাগের ছত্রিশ রাগিনী যেন
রমণের রসে স্বাদে রাঙা হয়ে থাকে ।
শ্রীরাধার রাগ যেন ফাগ হয়ে
মোক্ষের হাত থেকে রেহাই যোগায় ।
লগ্ন
ল দিয়ে লোলিতচর্মকে লবণের লালসা থেকে
মুক্ত রাখতে চাও ।
স্বঘোষিত লব চিরকাল
আমাকে হরের লোভে প্রলুব্ধ করেছে ।
লক্ষ করে দেখেছি বারবার
লক্ষণার লক্ষণ নিয়ে
ল-এর সমস্ত ধারা লজ্জিত হয়েছে ,
লক্ষ্যচ্যুত করা যায়নি লঙ্ঘনের তৃষা।
লোকলস্কর দিয়ে
লাইসেন্স কেড়ে নিতে চাও , লাঞ্ছনা কর
অশক্ত হয়েছি বলে ।
লহরির লহমা বলে - কোনো লাভ নেই।
লাশ হয়ে যাবার আগে পর্যন্ত
লোকায়ত লালসা থেকে
নির্লিপ্ত হব না কখনও ।
শজারু
শবরের শরাঘাতে শম্বরের জীবন গিয়েছে ।
সেইমত শম্বরের সঙ্গিনী
শোকে শূন্য-দিশা হয়ে
উপশম স্বরূপ সেই শবরকেই দাবি করে বসে,
শবরও সেই শম্বরীর কন্দর্প-শর শিরোধার্য করে ।
শান্তশিষ্ট শামার মৃদু তাপে
শামাপোকা প্রাণ দেয় হাজারে হাজারে ,
শার্দুলে তার মর্ম বোঝে না
যতক্ষণ সে শার্দুল থাকে ।
যখন শরীর তাকে অসহায় করে তোলে
হাওয়ায় রতির গন্ধে ,তাপে -
শৃঙ্গারের চোরাবালি
সহজের শিহরণে শয্যা পেতে দেয় ।
ষড়ৈশ্বর্য
ষোড়শপচারে আমি ষড়রিপুর আরাধনা করি ,
হে কাম ,ক্রোধ ,লোভ ,মোহ ,মদ ও মাৎসর্য
আরও তীব্র হও ,
ষোলকলা পূর্ণ হোক তোমাদের ।
আমার শরীরে ও মনে ডাকুক তীব্রতম
তোমাদের ষাঁড়াষাঁড়ি বান ।
ষড়ঙ্গ জুড়ে যেন অনুভব করি
এ ষোড়শী পৃথিবীতে
ষড়ঋতু আসছে যাচ্ছে কখন,কীভাবে ।
সম্পর্ক
সহজভাবে আসতে চাইছে সে ।আমি বলছি
একটু অসহজ হও । সংঘারামে সমাগম নয় ।
প্রকাশ্যে নয় । সংগোপনেও নয় ।একটু নতুন
ভাবে এসো । সংরাগ সংগত যদি না হয় সঙ্গমে ,
ব্যবহৃত সড়ক ছেড়ে ভিন্নপথ তৈরি করে নাও।
সফেদ না-হলে না হও ,একটু সফেন হও আরও।
সময়ের মতো সরল হয়ে সে আসুক চাই না ।সময়
তার বক্রতাকে চিনুক ।আমি তাকে সায়র-স্নান দেব।
হল
হ রে হ পাখি , হোমা হ ;
হওয়া কাকে বলে হয়ে দেখা ।
হকের জন্য পরম না হোক
পাতি হংস হয়েও
হঠযোগে হরণ রুখে দাঁড়া ।
শূন্যের মাঝে জন্ম নেওয়া হুঁশ
না-হারার হারমোনি হাতিয়ার করে
হাম্বীর হয় ।
হরি হে মাধব ,
হরিঘোষের গোয়ালে আমাকে
হসন্ত বানিয়ে দিও না ;
অল্প হলেও হিকমত দিও ।